
ইরান ও হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে। সাইরেনের শব্দ শোনা মাত্র আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাওয়া এখন অনেকের জন্য দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের বিভিন্ন সময় একাধিকবার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। সাইরেন বাজতেই মানুষ দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান। কিছু সময় পর বিপদ কেটে যাওয়ার ঘোষণা এলেও স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না—কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়। এই পুনরাবৃত্ত পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সাইরেন বাজলেও পরে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আবার কখনো প্রকৃত হামলার সময় সতর্ক সংকেত কার্যকর হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা ও দ্বৈত আতঙ্ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা এই চাপ ও ঘুমহীন রাত সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উদ্বেগজনিত সমস্যা ও মানসিক রোগের ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। দেশটির শিক্ষাবিদরা বলছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে নিয়মিত স্কুল কার্যক্রম ও কর্মজীবনও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা সামগ্রিক সামাজিক ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া অনেক পরিবারকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান, জরুরি খাদ্য ও পানীয় মজুত রাখা—এসব বিষয় এখন বহু পরিবারের জন্য নতুন বাস্তবতা এবং বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।