
দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার ও টিকা সংকট নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, টিকা ঘাটতির আশঙ্কা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেভাগেই একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি পাঠানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
বুধবার (২০ মে) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, কোনো মহামারি হঠাৎ করে তৈরি হয় না। বিশেষ করে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে আগেই ঝুঁকির লক্ষণ দেখা যায়। সেই জায়গা থেকেই ইউনিসেফ সরকারকে বারবার সতর্ক করেছিল।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টিকা কেনার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব তৈরি হয়। এর অন্যতম কারণ ছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত। তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয় না এর আগে কখনও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।’
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান দাবি করেছিলেন, ইউনিসেফ সরকারকে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আগাম সতর্ক করেনি। সেই বক্তব্যের জবাবে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, নির্দিষ্ট তারিখ এই মুহূর্তে হাতে না থাকলেও তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তবে ২০২৪ সাল থেকেই ইউনিসেফ চিঠি দিয়ে এবং বৈঠকের মাধ্যমে টিকা সংকটের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে আসছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তত ১০ বার সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে বসেছি। আমি এবং আমার সহকর্মীরা সরাসরি বলেছি, আমরা উদ্বিগ্ন। দেশে টিকা না এলে বড় সংকট তৈরি হবে, এটা পরিষ্কার ছিল।’
রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, বাংলাদেশে হামের বিস্তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বহু বছর ধরেই প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে কেন এত শিশু টিকার বাইরে থাকছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান।
টিকা সংগ্রহ পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ পণ্যের মতো টিকা কেনা যায় না। এটি অত্যন্ত বিশেষায়িত একটি খাত। শুধু কম দামের দিকে না তাকিয়ে কার্যকর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ইউনিসেফ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের হয়ে টিকা সংগ্রহ করে থাকে। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় থাকায় টিকার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে বড় পরিসরে কেনাকাটার কারণে কম খরচেও টিকা সরবরাহ করা যায়।