
মুখস্থ বিদ্যার বদলে দক্ষতা-নির্ভর আনন্দময় শিক্ষা সরকারের এবারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (২০ মে) লন্ডনে আয়োজিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিক্ষামন্ত্রীদের বার্ষিক সম্মেলন ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬’ এর মূল অধিবেশনে অংশ নিয়ে এমনটা জানান তিনি।
এদিন সম্মেলনের মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন শুধু সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষা নয়, বরং এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চায় যা তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্মমর্যাদার সুযোগ তৈরি করে দেবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকার এই জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রথাগত মুখস্থ বিদ্যার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ‘আনন্দময় শিক্ষার’ ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি করবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাধ্যমিক স্তরে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা ছাড়াও তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি, স্কুলে মিড-ডে মিল চালু এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেয়ার মতো সরকারের বেশকিছু বড় পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ সময় দেশের শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তনে শিক্ষার বাজেট পর্যায়ক্রমে মোট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
শিক্ষকদের ডিজিটাল যুগের উপযোগী করে তুলতে সরকারের ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) সব আধুনিক প্রযুক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হবে, যেন তা শিক্ষকদের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার বৈষম্য কমাতে কাজ করে।