
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের অবরোধের মুখে প্রণালিটি পুনরায় সচল করতে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনায় আগ্রহী আমিরাত। এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি ইরান-বিরোধী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে দেশটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে আমিরাতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-এর অনুমোদন বা সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও চালাচ্ছে আমিরাত।
আমিরাতের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার সামরিক শক্তিধর দেশগুলোকে নিয়ে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ সরাতে নিজেদের সামরিক ভূমিকা কী হতে পারে, তা খতিয়ে দেখছে আবুধাবি।
আরব কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রকে পরামর্শ দিয়েছে প্রণালিতে ইরান-নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোর দখল নিতে। এর মধ্যে অন্যতম আবু মুসা দ্বীপ, যেটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আমিরাত।
এদিকে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি এই পরিকল্পনা অস্বীকার না করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা নিয়ে বৈশ্বিক ঐকমত্য রয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মিত্রদের অবস্থান
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের পর থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহের এই রুটকে কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বেড়েছে।
বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত এবং বাহরাইন-সহ বেশ কয়েকটি দেশ ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলমান সংঘাতের সমাপ্তি ঘনিয়ে আসতে পারে। ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধ থামানো বা তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পথ খোলা রাখছে।
তবে একই সঙ্গে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে বার্তা পাচ্ছেন। তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন, এই যোগাযোগকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা বলা যাবে না।