
মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে খোদ মার্কিন আদালতের চপেটাঘাত খাওয়ার পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানেজের ওপর আরোপিত বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (২০ মে) আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের আদেশ দেন। ওই বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করার অপরাধে আলবানেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত মার্কিন সংবিধানে স্বীকৃত তার মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
যে কারণে চটেছিল ট্রাম্প প্রশাসন
ইতালির পেশাদার আইনজীবী ফ্রান্সেসকা আলবানেজ বর্তমানে ইসরায়েল-অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করছেন। এই পদে থাকাকালীন তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ইসরায়েলি ও মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের একটি প্রতিবেদনে তিনি বেশ কয়েকটি বড় মার্কিন করপোরেট কোম্পানির বিরুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলের 'গণহত্যামূলক অভিযানে' প্রত্যক্ষ সহায়তার গুরুতর অভিযোগও তোলেন।
এরই জের ধরে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়। ওয়াশিংটনের সে সময়কার অভিযোগ ছিল, আলবানেজ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইসিসি-কে মার্কিন ও ইসরায়েলি সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন কোম্পানি এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্ররোচিত বা উস্কানি দিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা, আইনি লড়াই ও আদালতের রায়
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে পড়ে আলবানেজের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে তার সব ধরনের ব্যাংকিং লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দেন আলবানেজের স্বামী ও মার্কিন নাগরিকত্ব প্রাপ্ত তাঁর কন্যাসন্তান।
সেই মামলার শুনানিতে গত ১৩ মে ওয়াশিংটনের জেলা বিচারক রিচার্ড লিওন এক ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট জানান, ফ্রান্সেসকা আলবানেজ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করলেও মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর (ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট) আওতায় তার স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। বিচারক আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন মূলত আলবানেজের প্রকাশিত ব্যক্তিগত মতামতের কারণেই তার কণ্ঠরোধ বা বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের এই বেআইনি চেষ্টা চালিয়েছে।
আদালতের এই কঠোর রায়ের পর মার্কিন 'অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল' (ওএফএসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের এই নির্দেশনা জারি থাকা পর্যন্ত জাতিসংঘের এই নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে না। তবে এই স্পর্শকাতর আইনি ও কূটনৈতিক বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কিংবা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা