
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা নিরসনে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সফল করতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ইরানের রাজধানী তেহরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির।
ইসলামাবাদ যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বরফ গলাতে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই পাক সেনাপ্রধানের এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফরের খবরটি সামনে এলো। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'ইসনা' (আইএসএনএ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক সফরের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা আলোচনা
ইরানি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান সফরকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইরানের শীর্ষস্থানীয় উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বেশ কয়েকটি নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অংশ নেবেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিদ্যমান মতপার্থক্য ও দূরত্ব দূর করে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য পাকিস্তান যে ধারাবাহিক মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, তার অংশ হিসেবেই এই হাই-প্রোফাইল সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আকস্মিক সফর ও কূটনৈতিক তৎপরতা
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই সফরের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ বুধবার (২০ মে) পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসেন নাকভি এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো আকস্মিক সফরে ইরানের রাজধানী তেহরানে এসে পৌঁছান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘনঘন সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে একটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়া।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনৈতিক সংকট ও যুদ্ধাবস্থা নিরসনে পাকিস্তান সরকার দুই চিরবৈরী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি কার্যকর মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র বা 'কূটনৈতিক সেতু' হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই ধারাবাহিক সফরগুলোর মাধ্যমে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া আরও বেশি গতিশীল হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি