
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আপন স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহে ঘুমন্ত ছোট ভাইকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যাকারী পাষণ্ড বড় ভাই উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে শরীয়তপুর জেলার একটি দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।
লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার মো. মোহন (৩২) এবং তাঁর বড় ভাই ঘাতক উজ্জ্বল (৩৪) ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ চতলার মাঠ সোনার বাংলা রোডের ফাজিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. বাবুল মিয়ার সন্তান। গত শুক্রবার ভোরের দিকে নিজ ঘরের ভেতর ছোট ভাইকে নৃশংসভাবে খুন করে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল উজ্জ্বল।
মাদকাসক্তি, অবহেলা ও পরকীয়ার সন্দেহ
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত উজ্জ্বল দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে পরিবারের কোনো সদস্যই তাঁর সাথে তেমন একটা কথা বলতেন না এবং সবাই তাঁকে একপ্রকার অবহেলা ও এড়িয়ে চলতেন। অপরদিকে, তাঁর ছোট ভাই মোহন একটি তৈরি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) ভালো বেতনে চাকরি করতেন। স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের বাকি সদস্যদের মতো উজ্জ্বলের স্ত্রীও মোহনের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতেন এবং তাঁকে স্নেহ করতেন।
কিন্তু পরিবারের এই স্বাভাবিক সুসম্পর্ককে কোনোভাবেই ইতিবাচকভাবে নিতে পারেননি মাদকাসক্ত উজ্জ্বল। তিনি উল্টো নিজের স্ত্রীর সাথে ছোট ভাই মোহনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে মনে তীব্র সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করেন। এই কাল্পনিক সন্দেহকে কেন্দ্র করে উজ্জ্বল প্রায়শই ঘরের ভেতর তুমুল ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতেন, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে গত শুক্রবার ভোরে ঘুমন্ত মোহনের ওপর বর্বরোচিত হামলার মধ্য দিয়ে।
আদালতে ঘাতক উজ্জ্বল
গ্রেফতারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উজ্জ্বল নিজের আপন ভাইকে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। সার্বিক বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম গণমাধ্যমকে জানান, ‘উজ্জ্বল পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার ছোট ভাইকে হত্যা করেছে বিষয়টি গ্রেফতারের পর সে স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’