
পটুয়াখালীর গলাচিপায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আকস্মিক লিফলেট ছড়িয়ে ঝটিকা স্লোগান দিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরা।
আজ রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে গলাচিপা পৌর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই পুরো শহরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিলোন সিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে লিফলেট উধাও!
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার দিকে গলাচিপা পৌর এলাকার ব্যস্ততম সদর রোডে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন যুবক এসে আচমকা হাজির হন। তাদের হাতে থাকা বেশ কিছু রাজনৈতিক লিফলেট তারা চলন্ত বাইক থেকেই রাস্তায় ছড়িয়ে দিতে থাকেন এবং স্লোগান দেন। ভরদুপুরে হঠাৎ এভাবে লিফলেট বাতাসে উড়তে দেখে পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে কেন্দ্র করে তৈরি করা ওই লিফলেটগুলোতে বেশ কিছু রাজনৈতিক স্লোগান লেখা ছিল। লিফলেটের বয়ান অনুযায়ী সেখানে লেখা ছিল, ‘দেশ বাঁচাতে প্রয়োজন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’, ‘শেখ হাসিনার সালাম, ঘরে ঘরে দিলাম’, ‘থানায় মামলা হোক, মিছিলে হামলা হোক, তবুও বলব আমরা জয়বাংলার লোক’।
উদ্ধারকৃত ওই প্রচারপত্রের একদম নিচের অংশে সৌজন্য হিসেবে ‘গলাচিপা উপজেলা ছাত্রলীগ’ নামটির উল্লেখ ছিল।
‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’—হুশিয়ারি ওসির
ঝটিকা এই ঘটনার খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন প্রকাশ্য তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে গলাচিপা থানার ওসি মো. জিলোন সিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘খবর পেয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোবাইল টহল জোরদার করা হয়েছে। কারও কাছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’