
ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক চরিত্র ও আদর্শিক বিচ্যুতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
আজ রোববার (১৭ মে) রাত পৌনে ৮টার দিকে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় এনসিপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেন।
সমাবেশে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের আমূল পরিবর্তনের দিকে আঙুল তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি দখল হয়ে গেছে। বিএনপি চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ দলে পরিণত হয়েছে। ’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিএনপি যে আদর্শিক রাজনীতি করত, লড়াই সংগ্রামের রাজনীতি করত, এখন যাদের দ্বারা বিএনপি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হচ্ছে এতে তাদের দলের নেতারাই আমাদেরকে বলে এ বিএনপি আমরা চিনি না।’
‘বিএনপি ইজ রিজেক্ট’ ও প্রাতিষ্ঠানিক দখলের অভিযোগ
এনসিপি’র এই শীর্ষ নেতা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় আধিপত্য বিস্তারের কঠোর নিন্দা জানান। ব্যাংক থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন পর্যন্ত সর্বত্র একচ্ছত্র দখলের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম দুদক, মানবাধিকার কমিশন, বিচার ব্যবস্থা, ব্যাংকগুলোকে পর্যন্ত দখল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে কীভাবে মাফিয়া কায়দায় দখল করা হয়েছে সেটাও দেখলাম। বিসিবিকে দখল করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দখল করা হয়েছে। মানুষের তো চক্ষু লজ্জা থাকে, কিন্তু তাদের কোনো চক্ষু লজ্জা নাই। এ কারণে বলছি ‘বিএনপি ইজ রিজেক্ট’।’
বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মনস্তাত্ত্বিক কষ্টের কথা উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা আমদেরকে বলে- যে বিএনপির জন্য রাজপথে লড়াই করেছি, যুদ্ধ করেছি, জেল-জুলুম খেটেছি, বাাড়িতে থাকতে পারি নাই, পরিবারের সঙ্গে খাবার খেতে পারি নাই, বাপ-মার জানাজায় অংশ নিতে পারি নাই; আমরা যে বিএনপির জন্য এই ত্যাগ করেছি, আজকের বিএনপি সেই বিএনপি নয়।’
পরিবারতন্ত্রের অবসান ও রাষ্ট্র সংস্কারের ডাক
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত, তা স্পষ্ট করে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের যেকোনো যোগ্য নাগরিকের দেশের সর্বোচ্চ পদে বসার অধিকার থাকতে হবে। সুনির্দিষ্ট কোনো পরিবারের গণ্ডিতে যেন রাষ্ট্রক্ষমতা আটকে না থাকে, সেই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই, যে তার যোগ্যতা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে। এতদিন এমনটা হতো যে, প্রধানমন্ত্রী হবে একটি নির্দিষ্ট পরিবার থেকে। এর বাইরে যদি হন তাহলে আপনি আর এই স্বপ্ন দেখতে পারবেন না। আমরা বলছি না কেউ স্বৈরাচার হয়ে গেছে, তবে কেউ যেন স্বৈরাচার হতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকব।’
ক্ষমতার পালাবদলের পরও যদি শাসন ব্যবস্থার কোনো গুণগত পরিবর্তন না হয়, তবে সেই পরিবর্তনের কোনো মূল্য থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। সামগ্রিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম, এখন যদি আগের সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে পরিবর্তন আর হলো কোথায়? সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। সেবা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সংস্কার করতে হবে। সরকারি সুবিধা সবার জন্য সমান হতে হবে। ’
কুমিল্লা পদযাত্রা ও সমাবেশে অতিথিবৃন্দ
দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিন দিনব্যাপী ‘কুমিল্লা পদযাত্রা’ শুরু করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এই কর্মসূচির প্রথম দিনে আজ তিনি জেলার মেঘনা, হোমনা ও চান্দিনা উপজেলায় পৃথক পৃথক গণসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
চান্দিনার এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নিজামুল আহসান পাপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য যুগ্ম সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্ এবং চান্দিনা উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক আবুল কাশেম অভি।
এছাড়া সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা মোশারফ হোসেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা খেলাফত মজলিশের সহ-সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান ফরাজী এবং এনসিপি নেতা গাজী আলাউদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।