
জাতীয় সংসদে নৌ-পুলিশের ফাঁড়ি বা থানা স্থাপনের দাবি ঘিরে সৃষ্টি হলো এক ব্যতিক্রমী ও হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতি। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে এ দাবি জানানোয় স্পিকার ও মন্ত্রীর মন্তব্যে পুরো সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুষ্টিয়া অঞ্চলের নদীপথে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি তুলে ধরেন ফরিদা ইয়াসমিন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চিলমারির চর এলাকা থেকে ভেড়ামারা থানার রাইটাঘাট, মিরপুর থানার তালবাড়িয়া ঘাট, কুমারখালী থানার কয়া ও শিলাইদহ ঘাট হয়ে খোকসা পর্যন্ত প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার নদীপথ বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলের নৌ-পুলিশের অধীনে পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা নৌ-ফাঁড়ি থেকে তদারকি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় কোনো নৌ-থানা বা নৌ-পুলিশের ফাঁড়ি না থাকায় নদীপথে সন্ত্রাসীদের অবৈধ তৎপরতা বেড়েছে এবং প্রায় প্রতিদিনই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।
এ সময় স্পিকার তাকে থামিয়ে জানতে চান, তিনি সত্যিই কি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করছেন এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী কীভাবে নৌ-পুলিশের থানা স্থাপন করবেন। জবাবে ফরিদা ইয়াসমিন আবারও একই মন্ত্রণালয়ের কাছেই নৌ-পুলিশের ফাঁড়ি স্থাপনের আবেদন জানান।
এরপর স্পিকার রসিকতা করে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, "আপনার আন্ডারে থানা-পুলিশ কিছু আছে কি না উত্তর দিন।"
জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীও হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, "পুলিশ তো তার হাতে নেই। তবে তার কাছে মুরগি আছে।"
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় যদি তার মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত জলাশয়ের মাছ কেউ অবৈধভাবে ধরে, তাহলে সেই সূত্র ধরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কিছু পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করতে পারেন। এর বাইরে এ বিষয়ে তার আর কোনো করণীয় নেই বলেও উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার পরে সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে উত্থাপনের পরামর্শ দেন।