
বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। দীর্ঘদিন আগে প্রণীত কিন্তু কখনও বাস্তবায়ন না হওয়া ২০০১ সালের বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন বাতিল করে নতুন আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবসে শিক্ষামন্ত্রী বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন। পরে বিলটি বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ কখনও কার্যকর করা হয়নি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রশাসনিক ও একাডেমিক প্রস্তুতি চলমান থাকায় শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগসম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত আইনে বিজ্ঞান, জীবনবিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, কৃষি, চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ জ্ঞানের বিভিন্ন উদীয়মান ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ রেখে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই নতুন আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০০১ সালের বিদ্যমান আইনের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিধান সংশোধনের প্রয়োজন হওয়ায় সংশোধনের পরিবর্তে নতুন আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের মতে, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি বগুড়া ও বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কৃষি খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতেও এটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
বিলের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়োপযোগী, প্রয়োজনীয় এবং যৌক্তিক উদ্যোগ।