
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যায় অভিযুক্ত দুইজনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেছেন, এটি একটি চলমান তদন্তের অংশ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ের সময় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সেখানে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ী এই ব্যাপারে দিল্লির অবস্থান জানতে চান। বিশেষ করে সন্দেহভাজনদের বাংলাদেশে হস্তান্তর বা কনস্যুলার অ্যাক্সেস দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করেন ভারতের ওই সাংবাদিক।
প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই ব্যাপারে এরইমধ্যে একটি প্রেস রিলিজ জারি করেছে।”
“যেহেতু এটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর একটি চলমান তদন্তের বিষয়, সুতরাং আমার পক্ষে এর বেশি মন্তব্য করা উপযুক্ত হবে না,” বলেন রণধীর।
গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, গোপন সূত্র মারফত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ খবর পায় যে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনসহ একাধিক গুরুতর অপরাধ করার পর দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা সুযোগ পেলে পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারে বলেও তথ্য পায় পুলিশ।
এতে বলা হয়েছিল, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ একটি অভিযান পরিচালনা করে এবং দুই বাংলাদেশিকে আটক করে। তারা হলেন পটুয়াখালীর রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), এবং ঢাকার আলমগীর হোসেন (৩৪)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওই বিবৃতে দাবি করা হয়েছে, রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের ঢাকায় ওসমান হাদি খুন করে পালিয়ে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং এযাবৎ তারা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে ছিল। সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা সম্প্রতি বনগাঁ এলাকায় আসে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের বনগাঁ এলাকা থেকে উভয় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই বিষয়ে এসটিএফ থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের উপযুক্ত আদালতে পেশ করা হয়েছে। আসামিদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চলছে।
ওই দুইজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। যদিও কনস্যুলার অ্যাক্সেসের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
গত ৯ মার্চ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন ‘‘ভারতীয় পুলিশ হাদি হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তবে এ বিষয়ে এখনও ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি বাংলাদেশ।’’
তিনি বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছি। তবে কলকাতা এখনও এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানায়নি।”
শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, দুই দেশের বিদ্যমান বন্দি বিনিময় ব্যবস্থার আওতায় আটক দুজনকে ফেরত আনার উদ্যোগ নেবে ঢাকা।
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য দিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।’’
তিনি যোগ করেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।