
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে যখন বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক আশার আলো দেখা যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ওমান উপসাগরে একটি ইরানি জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলার ঘটনায় নতুন করে রণদামামা বেজে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন শান্তি চুক্তির অপেক্ষায়, তখন এই সামরিক পদক্ষেপ পুরো প্রক্রিয়াকে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
হামলার নেপথ্যে মার্কিন দাবি
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৬ মে) ওমান উপসাগরে একটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজটি তাদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা লঙ্ঘন করে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া গোলার আঘাতে জাহাজটির রাডার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন বাহিনী।
শান্তির পথে কি বাধা হবে এই সংঘাত?
মজার বিষয় হলো, এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের একেবারে অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আলোচনায় বসবে। এই মধ্যস্থতায় পাকিস্তান অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের শর্ত ও তেহরানের নমনীয়তা
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামরিক অভিযান 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তিনি তার অবস্থানে অনড় থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হবে—তেহরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।”
একইসাথে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের সীমানার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে। ইরানের বন্দর ও সমুদ্র বিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের স্বার্থে তারা প্রয়োজনীয় কারিগরি ও চিকিৎসা সেবা প্রদানে প্রস্তুত।
চূড়ান্ত পরিণতির অপেক্ষায় বিশ্ব
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দুই দেশ। পাকিস্তান বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। তেহরান এখন মার্কিন প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখছে এবং খুব শীঘ্রই ইসলামাবাদের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। সম্ভাব্য এই চুক্তিতে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।