
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে হারের পর রাজ্যের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টো তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা করেছেন তিনি।
“আমি নিজে পদত্যাগ করব না”
নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর নিজের অবস্থানে অনড় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন না। তার এই সিদ্ধান্ত ভারতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক রীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নিজের মনোভাব ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই, সেই দিনটি একটি কালো দিন হোক।”
ভবানীপুরের ফল ও বিস্ফোরক অভিযোগ
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর আসনে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন মমতা। এই বিপর্যয়ের পর তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। বিশেষ করে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ফিরহাদ হাকিম ও তাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনারের কঠোর সমালোচনা করে মমতা বলেন, “আমি মানুষকে বিশ্বাস করি। জ্ঞানেশ কুমার আসল ভিলেন। এই পরিস্থিতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি যুক্ত।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ফিরছেন আদালত পাড়ায়
ক্ষমতা হারালেও সক্রিয় রাজনীতিতে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন মমতা। তবে তিনি জানান, প্রশাসনিক দায়িত্ব না থাকলেও তিনি আবারও তার পুরনো পেশা অর্থাৎ আইন প্র্যাকটিসে ফিরবেন। তার সঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিপ্লব মিত্র ও বিমান ব্যানার্জিও আদালতে আইন পেশায় যোগ দেবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
৯ মে শপথ ও সাংবিধানিক সংকট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করায় আগামী ৯ মে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সাধারণত নির্বাচনে হারলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দিয়ে নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হলে এবং নতুন সরকার দায়িত্ব না নিলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠবে। রাজভবন এখন মমতার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।