
ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে মনে করেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও উদীয়মান অর্থনীতির কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় দেশ। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বৃহৎ ভোক্তা বাজারের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।"
বিনিয়োগ বাড়াতে ফ্রান্সের আগ্রহ
আলোচনাকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ আরও প্রসারের বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখান। একইসঙ্গে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশকে (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস) আরও সহজ ও কার্যকর করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে তিনি স্বাগত জানান। বৈঠকে দুই পক্ষই দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য সুবিধা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সংস্কারে সরকারের অনড় অবস্থান
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সরকার প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করছে। মন্ত্রী বলেন, "ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, অনুমোদন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন এবং সেবাগুলোকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সময়োপযোগী ও দ্রুততর করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের প্রতিনিধিরাই আশা প্রকাশ করেন যে, এই আলোচনার ফলে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।