.png)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেওয়া এক ভাষণে তিনি দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কথা বলেন এবং ইরানকে অস্থিতিশীল করতে বিদেশি মদদপুষ্ট শক্তির ভূমিকার অভিযোগ তোলেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে খামেনি বলেন, ‘ট্রাম্পের জানা উচিত যে রেজা শাহ, মোহাম্মদ রেজা শাহের মতো বিশ্ব স্বৈরশাসকরা তাদের অহংকারের চূড়ায় পৌঁছেই পতনের মুখে পড়েছিল। তাকেও (ট্রাম্প) একদিন পতন বরণ করতে হবে।’
দেশের বর্তমান অস্থিরতা সত্ত্বেও ইরান পিছু হটবে না—এমন বার্তাও দেন তিনি। খামেনির ভাষায়,
“ইরান হাজারো সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সামনে এই দেশ কখনোই মাথা নত করবে না।”
চলমান বিক্ষোভ নিয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতেই এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,
“তারা তাকে (ট্রাম্প) সন্তুষ্ট করতে চায়। সে যদি সত্যিই জানত কীভাবে একটি দেশ চালাতে হয়, তাহলে নিজের দেশটাই ঠিকভাবে চালাত। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই অসংখ্য সমস্যা রয়েছে।”
ভাষণের শেষ অংশে খামেনি সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন,
“প্রিয় যুবসমাজ, তোমরা প্রস্তুতি ও ঐক্য ধরে রাখো। ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি যেকোনো শত্রুকে পরাস্ত করতে সক্ষম।”
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরিস্থিতি ‘খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে’। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘আগের মতো যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর জবাব দেয়া হবে।’
এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে শুরু হওয়া প্রায় দুই সপ্তাহের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’-সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরান কর্তৃপক্ষ সারা দেশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। শুক্রবার ভোরে সংস্থাটি জানায়,
“ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় দেশটি টানা ১২ ঘণ্টা ধরে কার্যত অফলাইনে রয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, চলমান সহিংসতায় অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতা বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতি জনমনে জমে থাকা গভীর হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, দ্য ডন