
ভারতের আসামে মুসলিম উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাজ্যে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুধুমাত্র বাঙালি ভাষাভাষী মুসলিমদের লক্ষ্য করে করা হচ্ছে, অন্য সম্প্রদায়ের কেউ এতে জড়িত নন। নির্বাচনের আগে এই বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক তাপে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, রোববার (২৫ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আসামে শুধু ‘মিয়া’দেরই উচ্ছেদ করা হয়। অসমীয়াদের কীভাবে উচ্ছেদ করা হতে পারে?’ তিনি গোয়াহাটির আশপাশের পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান সংক্রান্ত সংবাদকেও অস্বীকার করেন।
এখানে উল্লেখ্য, ‘মিয়া’ শব্দটি মূলত বাঙালি ভাষাভাষী মুসলিমদের জন্য ব্যবহৃত একটি তির্যক পদ। অনেক অ-বাঙালি এটি ব্যবহার করে তাদের বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য এই শব্দটিকে প্রতিবাদ এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছেন।
হিমন্ত শর্মা জানান, গোয়াহাটির পাহাড়ে উচ্ছেদ হবে; এমন গুজব ছড়াচ্ছে মূলত গণমাধ্যম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন পর্যন্ত যখন একটি উচ্ছেদও হবে না, তখন পাহাড়ে বসবাসকারীরা বুঝবেন যে মিডিয়াই তাদের অকারণে আতঙ্কিত করেছে।’
চলতি বছরের প্রথমার্ধে আসামের ১২৬ আসনের বিধানসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে চাইবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি গত ১০ বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় আছে। গোয়াাহাটির পাহাড়ে কোথায় উচ্ছেদ হয়েছে?’
তিনি আরও জানান, সরকার পাহাড়ে বসবাসকারীদের ভূমি অধিকার প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড়ে বসবাসকারী যেকোনও মুসলিম অভিবাসীকেও উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হবে। কংগ্রেসকে মুসলিম ভোট তোষণের অভিযোগে আক্রমণ করে হিমন্ত শর্মা বলেন, ‘কংগ্রেস বলেছে, তারা দলীয় টিকিটের জন্য ৭৫০টি আবেদন পেয়েছে। কিন্তু তারা বলেনি, এর মধ্যে ৬০০ জনই ‘মিয়া’। মাত্র ১২০ থেকে ১৩০ জন আবেদনকারী হিন্দু।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন, কংগ্রেস ‘আমাদের ধর্ম, সংস্কৃতির জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে, আর যত দৃঢ়ভাবে আমরা তাদের পরাজিত করতে পারব, তত বেশি আমরা আমাদের রাজ্য ও ‘জাতি’কে রক্ষা করতে পারব।’
হিমন্ত শর্মা দাবি করেন, রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈয়ের পাকিস্তানের সঙ্গে কথিত যোগাযোগের তথ্য খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বিষয়টি প্রকাশ করতে চাই। তবে ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট থাকায় এক-দুই দিন দেরি হতে পারে।’
মূলত বিজেপি লোকসভা সদস্য গৌরব গগৈকে তার স্ত্রী পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে কথিত যোগাযোগের অভিযোগে আক্রমণ করছে। পাকিস্তানি নাগরিক আলি তৌকির শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে। দাবি করা হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ওই ঘটনায় তার সঙ্গে গগৈয়ের ব্রিটিশ স্ত্রী এলিজাবেথ কোলবার্নের যোগাযোগ ছিল।