
ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে, দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার মৃত্যুর পর দেশে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে তেহরান।
তবে খামেনির মৃত্যুতে অভিযান শেষ হয়ে যায়নি বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে ইরানে হামলা অব্যাহত থাকবে।
রোববার (১ মার্চ) মধ্যরাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করেন।
ওই পোস্টে তিনি লিখেন, “ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত।”
পুরো পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্যই নয়, বরং সেইসব মার্কিনি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এক কাঙ্ক্ষিত বিচার; যাদের খামেনি এবং তার রক্তপিপাসু গুন্ডাবাহিনী হত্যা কিংবা পঙ্গু করে দিয়েছিল। তিনি আমাদের গোয়েন্দা এবং অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরায়েলের সাথে মিলে আমরা এমন এক অভিযান চালিয়েছি যে, খামেনি বা তার সাথে মারা যাওয়া অন্য নেতাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।
ট্রাম্প আরও লিখেন, ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা খবর পাচ্ছি যে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা আমাদের কাছে ক্ষমা বা নিরাপত্তা চাইছে। আমি গত রাতেই বলেছি, ‘এখনই সুযোগ, তারা চাইলে ক্ষমা পেতে পারে; কিন্তু দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাবে না তারা।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিপ্লবী গার্ড ও পুলিশ বাহিনী ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হওয়া প্রয়োজন, কারণ খামেনির মৃত্যুর পর মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই নিখুঁত ও ভারী বিমান হামলা পুরো সপ্তাহজুড়ে কিংবা প্রয়োজন হলে বিরতিহীনভাবে চলবে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে হামলা চালায়, তাতেই তার মৃত্যু হয়। পরে প্রাসাদ চত্বরে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ইরানি উদ্ধারকর্মীরা।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, হামলার পর প্রাসাদটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ওই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাই নিহত হয়েছেন।