
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমার পর নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। মাদক পাচারের অভিযোগে তিনি ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।
রোববার (২৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের চার বছর পর হন্ডুরাসের পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান হার্নান্দেজ। সেখানে ন্যাশনাল পার্টির সমর্থক ও পরিবারের সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান।
গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দেয়, জো বাইডেন প্রশাসন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হার্নান্দেজকে ফাঁসিয়েছে বলে বিবেচনা করে তাকে প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমা দেওয়া হচ্ছে। দেশে ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট নিজ দেশে ফিরে আসার অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং বন্দিজীবনের কষ্টের কথাও তুলে ধরেন।
হন্ডুরাসে ফেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কারণ, তার বিরুদ্ধে জারি থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা গত জুনে স্থগিত করা হয়েছে। তবে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের একটি স্থানীয় মামলায় আগামী ৩ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির হতে হবে।
এদিকে রিফ্লেকশন, রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন টিমের গবেষক ও আইনজীবী জোয়াকিন মেহিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়াটি কেবল লোকদেখানো প্রহসনে পরিণত হতে পারে। তার মতে, প্রকৃত বিচার পাওয়া নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। প্যান্ডোরা পেপারস-সংক্রান্ত দুর্নীতি তদন্তে তার বিরুদ্ধে ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার রাজনৈতিক প্রচারণায় সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে নিউইয়র্কের একটি আদালতেও ট্রাম্প প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযানের সময়কার এই মিত্রের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠে আসে।
সূত্র: আল জাজিরা