
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর প্রায় চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির বাবা পরিবার ত্যাগ করায় তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহকর্মীর কাজ করেন। এই সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
যেভাবে বিষয়টি সামনে আসে
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা দেখা দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে তার মা সিলেট থেকে ফিরে আসেন এবং মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন। গত ১৮ এপ্রিল মদন উপজেলার একটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসক শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এই ঘটনায় শিশুটির মা গত বৃহস্পতিবার বাদী হয়ে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাবের অভিযান ও গ্রেপ্তার
র্যাব-১৪-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান জানান, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪-এর একটি চৌকস দল বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামি আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।"
পরবর্তী পদক্ষেপ
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আজ দুপুর ১২টায় র্যাব-১৪-এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে অধিনায়ক এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।