
২০০৭ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার জন্য ঐতিহাসিক মহাস্থান জাদুঘর থেকে পাঠানো ৪৭টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রদর্শনী শেষে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই দীর্ঘদিন জাদুঘরের সংরক্ষণাগারে রাখা ছিল। এবার সেই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আসল নাকি রেপ্লিকা (প্রতিলিপি), তা সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই করতে যাচ্ছে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল।
শনিবার (৩০ মে) শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ওই বৈঠকে তদন্ত কমিটির কাজের মেয়াদ আরও ১৫ কার্যদিবস বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর সত্যতা ও সত্যনিষ্ঠতা যাচাইয়ের জন্য গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই কমিটি গঠন করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
এছাড়া মূর্তিগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে একটি নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অনুষ্ঠিত এই পর্যালোচনা বৈঠকে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা এ পর্যন্ত তাঁদের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত এবং কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, মহাস্থানগড় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য। তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিমন্ত্রীকে অবগত করা হয়েছে এবং এই বর্ধিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ করার আশা প্রকাশ করছেন তারা।