
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার অনড় অবস্থানের মধ্যেই বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর ফলে আইনত আর মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকছেন না তৃণমূল নেত্রী।
রাজ্যপালের ঘোষণা ও সাংবিধানিক ক্ষমতা
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রাজ্যপাল আরএন রবি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত জানান। ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২(খ) উপ-ধারা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের ৭ মে থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
রাজ্যপালের এই আদেশের পর রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। এর মাধ্যমে ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো এবং ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথ সুগম হলো।
পদত্যাগ না করার অনড় অবস্থানে ইতি
৭১ বছর বয়সী তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর আসনে হারের পরও ইস্তফা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। তবে আজ বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হওয়ার দিনে রাজ্যপালের এই নির্দেশ তার ক্ষমতার অবসান নিশ্চিত করল। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে গণ্য হবেন না।
নতুন সরকারের শপথের প্রস্তুতি
অন্যদিকে, এবারের নির্বাচনে বাংলায় ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করা বিজেপি নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করবেন।
রাজ্যপালের এই আকস্মিক পদক্ষেপে মমতার জেদ পরাজিত হলো নাকি এক নতুন রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের সূচনা হলো—এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে আপাতত পশ্চিমবঙ্গের মসনদে যে পরিবর্তন আসছে, তা নিশ্চিত।