
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ মার্কিন অভিযানে অন্তত ৩২ জন কিউবান নাগরিক নিহত হয়েছেন। কিউবা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এবং নিহতদের স্মরণে কিউবা সরকার সোম ও মঙ্গলবার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। কিউবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের শেষকৃত্যসহ সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে খুব শিগগিরই বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে। ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র কিউবার নাগরিকদের ওপর এই অভিযানের ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, মাদুরোকে আটক করার সময় কিউবান নাগরিকরা তাকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, কিউবানদের ওই প্রতিরোধমূলক অবস্থান তাদের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত ছিল না, যার ফলেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিকোলাস মাদুরো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরামর্শের ক্ষেত্রে কিউবান দেহরক্ষী ও উপদেষ্টাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতেন। গত শনিবার পরিচালিত ওই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে মার্কিন বাহিনী যখন মাদুরোর বাসভবন বা অবস্থানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করে, তখন সেখানে দায়িত্বে থাকা কিউবান সদস্যরা বাধা দেন। এর জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং প্রাণহানি ঘটে।
এদিকে, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলা থেকে আটক হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আদালতের মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় আজ সোমবার দুপুরে তাদের প্রথমবারের মতো ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।
মাদক পাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা