
দেশের ভেটেরিনারি হাসপাতালগুলোতে কোনো অবস্থাতেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না বলে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সঙ্গে প্রাণী চিকিৎসায় মানসম্মত ওষুধের ব্যবহার এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সম্মেলন কক্ষে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, প্রাণীর চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত কোনো ওষুধের মেয়াদ যেন কোনোভাবেই শেষ না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সেবার মান বজায় রাখতে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং উন্নতমানের ওষুধ নিশ্চিত করাও জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল দেশের প্রাণী চিকিৎসাসেবার অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পোষা প্রাণীর সংখ্যাও বাড়ছে। এ বাস্তবতায় প্রাণিসম্পদ খাতের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাণী চিকিৎসাকে সময়োপযোগী, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পোষা প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের শাখা সম্প্রসারণ এবং সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ ঔষধাগারের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেনা ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও শল্যচিকিৎসার সরঞ্জাম মাঠপর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় মাঠপর্যায়ের প্রাণিসম্পদ দপ্তরগুলোর জন্য ৯০ ধরনের ওষুধ ও কেমিক্যাল এবং ৪০ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও শল্যচিকিৎসার সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়।