
গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে দেশের টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
সোমবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এর আগে সকালে রাজধানীর সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিথিরা। উদ্বোধনের পর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি মিলনায়তন প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হলেও সরকারের লক্ষ্য একটি দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র গড়ে তোলা। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্ত ভিত রচনা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিআরডিবিকে আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সংস্থাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে পল্লী উন্নয়নের যে ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী করেন।
তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্রামীণ উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে এগিয়ে নিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনমুখী করে গড়ে তোলা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নেতৃত্বে গ্রামীণ অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক।
এ সময় বিভিন্ন সফল উদ্যোক্তা নিজেদের সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। তারা সরকারের সহযোগিতা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, সে অভিজ্ঞতাও উপস্থিতদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিরা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, সমবায়ী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সুফলভোগীরা অংশ নেন।