
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে যে ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ, এবার সেই প্রতিপক্ষের কাছেই বড় ব্যবধানে হেরে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব শেষ করতে হলো লাল-সবুজের দলকে। ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রথম দুই ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ এবং সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে আগেই চূড়ান্ত পর্বে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। ফলে ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি ছিল মূলত নিয়মরক্ষার। তবে প্রতিপক্ষ ভারত হওয়ায় ম্যাচটি জিতে ভালোভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করার প্রত্যাশা ছিল ভারপ্রাপ্ত কোচ আতিকুর রহমানের। শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি; বরং আরেকটি হার দিয়ে ব্যর্থতার বৃত্তই পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মাঠের বাইরের নানা বিতর্কের পাশাপাশি প্রথম দুই ম্যাচে দলের এলোমেলো পারফরম্যান্সের কারণে ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্সকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় বাফুফে। দলের সঙ্গে সহকারী হিসেবে থাকলেও জেরার্ডের আপত্তির কারণে প্রথম দুই ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত কোচ আতিকুর। শেষ ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক এই ফুটবলার ভালো কিছু করার প্রত্যয় জানিয়েছিলেন। কিন্তু দোস্তলিক স্টেডিয়ামে তার সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
ম্যাচের ২৬ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। বক্সে বাড়ানো বল বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে না পারায় সুযোগ পেয়ে যান মণিপুরের ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ড্যানি মেইতেই লাইশরাম। বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত প্লেসিংয়ে নেওয়া তার শট গোলকিপার রাজ চৌধুরীর পায়ের নিচ দিয়ে জালে জড়ায়।
প্রথম গোলের পরও বাংলাদেশের রক্ষণে দুর্বলতা কাটেনি। ৬০ মিনিটে থ্রো-ইন থেকে পাওয়া বলে বাংলাদেশের বক্সে এক ভারতীয় খেলোয়াড় ব্যাক হেড করেন। বাতাসে থাকা সেই বল দারুণ এক ব্যাকভলিতে জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার বিশাল যাদব।
ভারতের প্রথম দুই গোলেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগের অরক্ষিত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কার্যত কোনো পাহারা না থাকায় সহজ সুযোগ কাজে লাগায় ভারত।
দুই গোলের পর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করায় বাংলাদেশের ডিফেন্ডার মিঠু চৌধুরীকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলে মিঠুর সঙ্গে ভারতীয় খেলোয়াড়দের সাময়িক বাগ্বিতণ্ডা হয়। এতে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
গোল শোধে বাংলাদেশের হয়ে স্ট্রাইকার মাহী খান ও উহঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস চেষ্টা চালান। তবে আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার দেখা যায়নি। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে আবারও রক্ষণে ভুল করে বসে বাংলাদেশ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন ভারতের বদলি মিডফিল্ডার মো. আরবাশ। তাতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এবারের এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলের হার দিয়ে। পরের ম্যাচে সিরিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে পরাজয়ের পর ভারতের বিপক্ষেও একই ব্যবধানে হেরে টানা তিন হার নিয়ে অভিযান শেষ করল দলটি।
অন্যদিকে সিরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে বাছাইপর্ব শুরু করা ভারত স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল। তবে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল তারা।