
সিলেটের আকাশপথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে টার্কিশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের প্রবাসীদের পাশাপাশি ইউরোপমুখী যাত্রীদের জন্যও আন্তর্জাতিক যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
গত শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। এর পাশাপাশি বিমানবন্দরটির সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় টার্কিশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে সিলেট-ইস্তাম্বুল রুট নিয়ে আলোচনা চলছে।
নতুন রুট চালু হলে সিলেটের বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর আন্তর্জাতিক যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে। বিশেষ করে ইস্তাম্বুলকে ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের সময় ও ভোগান্তি—দুটিই কমতে পারে।
এদিকে ইউরোপে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, পর্তুগাল, ফিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন শেনজেনভুক্ত দেশে পড়াশোনার জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন করতে ভারতে যেতে হয়। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময় ও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এই সমস্যা সমাধানে দিল্লিতে থাকা বিভিন্ন দেশের ভিসা সেন্টারগুলো বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশেই যাতে শিক্ষার্থী ও ভিসাপ্রত্যাশীরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সিলেট থেকে নতুন আন্তর্জাতিক আকাশপথ চালু এবং ভিসা প্রক্রিয়া দেশে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হলে এর সুফল সবচেয়ে বেশি পাবেন প্রবাসী ও শিক্ষার্থীরা। একদিকে সরাসরি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়বে, অন্যদিকে বিদেশযাত্রার আগে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাও কমবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন গতি এসেছে। দীর্ঘ আট বছর বন্ধ থাকার পর গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওমানভিত্তিক সালামএয়ার সিলেট-মাস্কাট রুটে নিয়মিত সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে।
এর পরপরই সিলেট-ইস্তাম্বুল রুটে টার্কিশ এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগের খবরকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইস্তাম্বুল রুট চালু হলে শুধু তুরস্কের সঙ্গে সিলেটের সরাসরি যোগাযোগই তৈরি হবে না, ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন একটি সম্ভাব্য পথ খুলে যাবে। বিশেষ করে সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত পরিবারগুলোর জন্য এই আকাশপথ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে নতুন রুট, টার্মিনাল সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ভিসা কার্যক্রম সহজ করার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই বিমানবন্দরকে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক যোগাযোগকেন্দ্রে পরিণত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।