
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। গত বছরের সামরিক সংঘাতের বর্ষপূর্তিতে ভারতকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দেশটিকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর: নয়া সমীকরণ
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত চলা দুই দেশের সামরিক উত্তেজনাকে পাকিস্তান ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। এই অভিযানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল শরিফ চৌধুরীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী।
দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আইএসপিআর প্রধান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী সাফল্যের সাথে শত্রুর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে। তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা কী হয়েছিল তা নিয়ে খুব বেশি কথা বলব না। বরং ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময় নিয়ে বেশি আলোচনা করব।”
ভারতকে আক্রমণ ও কৌশলগত ব্যাখ্যা
সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল শরিফ চৌধুরী দাবি করেন, এই সংঘাতের ১০টি কৌশলগত পরিণতি রয়েছে। তিনি বলেন, ভারতকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তোলা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এখন চিরতরে ‘সমাধিস্থ’ হয়েছে। পেহেলগাম হামলার উদাহরণ টেনে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “(পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার) প্রমাণ কোথায়? কেউ এটা বিশ্বাস করে না। সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।”
তিনি পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্বকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রধান কারিগর হিসেবে দাবি করেন এবং ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেন। তার মতে, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ‘রাজনীতিকরণ’ এবং রাজনীতির ‘সামরিকীকরণ’ পুরো অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাশ্মীর ও অভ্যন্তরীণ সংকট
আইএসপিআর প্রধান অভিযোগ করেন, ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং কাশ্মীরিদের ওপর দমন-পীড়ন আড়াল করতে পাকিস্তানের ওপর দোষ চাপায়। তিনি কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেখানকার জনতাত্ত্বিক চিত্র পরিবর্তনের অধিকার ভারতের নেই। এছাড়া তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের ‘তথ্যযুদ্ধ’ ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন।
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের পরিসংখ্যান
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের সংঘাতের পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে গিয়েছিল। ফলে অক্টোবর মাসে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান চালাতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ভারত আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতাকে বিদ্রুপ করে তিনি মন্তব্য করেন, “মারকা-ই-হকে শিক্ষা পাওয়ার পর ভারত কাকে ফোন করেছিল, দেখেছেন? আফগান তালেবান সরকারের তথাকথিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।”