
দশকের পর দশক ধরে চলা কঠোর মাদকনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মারিজুয়ানা বা গাঁজাজাত পণ্যকে এখন থেকে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি জানায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্বাহী আদেশের পর ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যানচে এই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই পরিবর্তনের ফলে গাঁজা, যা এতদিন হেরোইনের মতো ‘শিডিউল-১’ শ্রেণিতে ছিল, এখন ‘শিডিউল-৩’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই শ্রেণিতে সাধারণত টাইলেনলের মতো ওষুধও রাখা হয়।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিডিএসএ-এর তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ গাঁজার বাজার ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। নতুন নীতির ফলে ব্যবসায়ীরা মার্কিন কর আইনের ‘২৮০-ই’ ধারা থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন, যা তাদের ব্যবসায়িক খরচ কর থেকে সমন্বয় করার সুযোগ দেবে এবং নিট মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করবে।
এ ছাড়া আগে ফেডারেল নিষেধাজ্ঞার কারণে জেপি মরগান বা গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে ঋণ দিতে অনাগ্রহী ছিল। নতুন নীতির ফলে এখন মূলধন সংগ্রহ ও ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া সহজ হবে। ইতোমধ্যে ক্যানোপি গ্রোথ ও ট্রুলিভ তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।
এই নীতিগত পরিবর্তন চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও মানসিক রোগের চিকিৎসায় গাঁজার ব্যবহার নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সহজতর হবে, যা বায়োটেক ও ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত করবে।
ঘোষণার পরপরই মার্কিন শেয়ারবাজারে ক্যানাবিস কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ৬ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা এখন এ খাতকে উচ্চ ঝুঁকির পরিবর্তে উচ্চ প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে দেখছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, নাগরিকদের সিবিডি পণ্যের পূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করতে আইনকে আরও আধুনিক করা প্রয়োজন।
তবে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনাও উঠেছে। রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন সতর্ক করে বলেছেন, গাঁজার ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলে মাদক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে, যা সড়ক দুর্ঘটনা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) আগামী ২৯ জুন থেকে এই পরিবর্তনের চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে। জনশুনানি ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে। যদিও ফেডারেল পর্যায়ে গাঁজা এখনও পুরোপুরি বৈধ হয়নি, তবুও এই পদক্ষেপকে সম্ভাবনাময় বৈশ্বিক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বিবিসি