
বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়া মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ ঘিরে শুরু থেকেই যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, মুক্তির পর তা রূপ নিয়েছে প্রশংসা আর বিতর্কের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায়। পপসম্রাট হিসেবে পরিচিত মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক এই চলচ্চিত্র দর্শকদের একাংশকে আবেগে ভাসালেও সমালোচকদের বড় একটি অংশ এর উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
ছবিটিতে জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাইয়ের ছেলে জাফার জ্যাকসন। তার অভিনয়, নাচ ও শারীরিক অভিব্যক্তি অনেক দর্শকের কাছে প্রশংসা পেলেও সমালোচকেরা বলছেন, চরিত্রায়ন অনেক জায়গায় অতিরিক্ত গ্ল্যামারাইজড। তাদের মতে, জ্যাকসনের বিতর্কিত ব্যক্তিজীবন ও অতীতের অভিযোগগুলো পর্দায় কতটা জায়গা পেয়েছে, তা নিয়েই মূল প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’ নামের প্রামাণ্যচিত্রের পর যে সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটে অনেক সমালোচক মনে করছেন, ছবিটি বিতর্কিত অংশগুলো এড়িয়ে গিয়ে বেশি নিরাপদ পথে হেঁটেছে। এতে বাস্তবতার পূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে কি না, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে।
অন্যদিকে সিনেমার বড় বাজেট, মঞ্চ পরিবেশ পুনর্নির্মাণ এবং সংগীত পরিবেশনার দৃশ্যগুলো দর্শকদের একটি অংশকে মুগ্ধ করেছে। তবে সমালোচকদের আরেক অংশ বলছেন, গল্প বলার জায়গায় আবেগ ও নাটকীয়তা বেশি প্রাধান্য পেয়েছে, ফলে ভারসাম্য কিছুটা নড়বড়ে হয়েছে।
পরিচালক অ্যান্টোইন ফুকুয়ার এই বায়োপিক নিয়ে আগেই আলোচনা ছিল গল্প বলার দৃষ্টিভঙ্গি ঘিরে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিশ্বখ্যাত এই শিল্পীর জীবনকে পর্দায় আনতে গিয়ে নির্মাতারা এমন একটি উপস্থাপন বেছে নিয়েছেন, যেখানে বিতর্কিত অধ্যায়গুলো সরাসরি না দেখিয়ে ইঙ্গিত আকারে রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘মাইকেল’ এখন কেবল একটি বায়োপিক নয়, বরং একটি আলোচিত সাংস্কৃতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। দর্শকের একাংশ যেখানে এটি উপভোগ করছেন একজন কিংবদন্তির জীবনগাথা হিসেবে, অন্যদিকে সমালোচকেরা দেখছেন নির্বাচিত সত্য আর উপস্থাপনার সীমাবদ্ধতার আড়ালে থাকা প্রশ্নগুলো।