
নিজের সন্তানের মতো করে ভাইয়ের সন্তানদের বড় করে তুলেছিলেন বোন। অথচ সেই বোনের জীবনই শেষ করে দেন ভাই—উদ্দেশ্য ছিল ৫০ লাখ রুপির জীবনবিমা ও সম্পত্তি দখল করা। ভারতের উত্তর দিল্লির বুরারিতে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ বছর পর মামলার প্রধান সহযোগী চন্দনকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির পরিকল্পনা
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত অনিতার বয়স ছিল ৪৫ বছর। তিনি পেশায় গৃহকর্মী ছিলেন। তার ভাই ৫১ বছর বয়সী কমল কুমার নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিলেও তদন্তে তিনি দশম শ্রেণি পাস একজন ভুয়া চিকিৎসক বলে জানা যায়।
পেশাগত ক্ষতি এবং প্রায় ১২ লাখ রুপি ঋণের চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে কমল নিজের বোনের ৫০ লাখ রুপির জীবনবিমা ও বসতবাড়ি দখলের পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি নিজের দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই ভাই চন্দন ও কুন্দনকে যুক্ত করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনায় সহযোগিতা করার বিনিময়ে চন্দন ও কুন্দনকে ২ লাখ রুপি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কমল।
ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট একটি ছুরি কেনেন কমল। পরদিন রাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বোন অনিতার বাড়িতে গিয়ে রাত কাটান।
গভীর রাতে চন্দন ও কুন্দনকে বাড়ির ভেতরে ডেকে নেন তিনি। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় অনিতার গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনাটির দায় অনিতার স্বামী গিরধারী লালের ওপর চাপানোরও চেষ্টা করা হয়।
পরদিন ঘটনাটি সামনে আসার পর পুলিশ প্রথমে গিরধারী লালকে সন্দেহ করেছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তদন্তকারীরা অন্য সম্ভাবনার দিকে নজর দেন। একই সঙ্গে হত্যার সময় অনিতার ভাই কমল সেখানে উপস্থিত ছিলেন—এমন তথ্যও পুলিশের হাতে আসে।
তদন্তের একপর্যায়ে কমলকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করেন। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
তবে এর মধ্যেই কমলের দুই শ্যালক চন্দন ও কুন্দন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
৯ বছর পর বিহারে ধরা পড়লেন চন্দন
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ বছর পর মামলার অন্যতম সহযোগী চন্দনের অবস্থান সম্পর্কে গোপন তথ্য পায় দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি বিশেষ দল।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে দলটি বিহারের লখীসরাই এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই চন্দনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালের সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে অগ্রগতি হয়েছে।
ডিপিসি সঞ্জীব যাদব জানিয়েছেন, এই মামলার মূল পরিকল্পনাকারী কমল কুমারকে আদালত ইতোমধ্যে সাজা দিয়েছেন। গ্রেপ্তার চন্দনকে রিমান্ডে নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
তবে চন্দনের দাবি, এই মামলার অপর অভিযুক্ত কুন্দন ২০১৮ সালে গ্রামের একটি রেললাইনের পাশে মারা গেছেন। চন্দনের এই দাবির সত্যতা পুলিশ যাচাই করে দেখছে।