
গ্রাহকের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সঙ্গে দেশের আর্থিক খাতের সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের জামায়াতে ইসলামী সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আজ এ তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের ধর্মীয় ও আর্থিক চাহিদা বিবেচনায় প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য মোট ১ হাজার ৬৯৯টি শাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহর এলাকায় রয়েছে ১ হাজার ৭৪টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৬২৫টি শাখা।
অনুমোদিত শাখাগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০টি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২২৬টি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৪১টি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৩৮টি এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখা রয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখার মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২০৬টি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৮১টি, এক্সিম ব্যাংকের ১৫৫টি, ইউনিয়ন ইসলামী ব্যাংকের ১১৪টি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১০৫টি শাখা রয়েছে। এর পাশাপাশি আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখাও এ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ৩৫টি প্রচলিত ব্যাংকের মাধ্যমে ৭৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ১ হাজার ১০২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো পরিচালিত হচ্ছে। এসব শাখা ও উইন্ডোর মাধ্যমে গ্রাহকদের ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আরও দুটি প্রচলিত ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিসর আরও বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।