
ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মাদক পাচারসহ একাধিক বিতর্কিত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, ওয়াশিংটন চাইলে তিনি যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থানে আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি চাপ এবং ক্যারিবীয় এলাকায় মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে তার এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য এই আলোচনায় মাদক পাচারের পাশাপাশি তেল সম্পদ ও অভিবাসন ইস্যুও গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ৩০টির বেশি নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’র আওতায় চালানো এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ১১০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ গত বুধবার মাদক পরিবহনের অভিযোগে দুটি নৌযানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এতে পাঁচজন নিহত হন। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এসব অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে সিআইএ পরিচালিত একটি ড্রোন হামলায় ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং ফ্যাসিলিটিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও মাদুরো এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে কয়েক দিন পর আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল পরিবহনে একাধিক ট্যাংকার ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ১০ ডিসেম্বর এমনই একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার ঘটনাকে ভেনেজুয়েলা ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দেয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মাদুরো তার দেশের কারাগার ও মানসিক আশ্রমের বন্দিদের জোরপূর্বক যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই মাদক পাচারের রুটে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জব্দ বা হামলার শিকার নৌযানগুলোতে মাদক থাকার কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সূত্র: বিবিসি