
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহচরী ফাতেমা বেগম এখন বিএনপি চেয়ারপারসনের কন্যা জাইমা রহমানের আস্থার জায়গা ও ছায়াসঙ্গী হিসেবে সবার দৃষ্টি কেড়েছে।
ফাতেমা বেগম প্রায় দেড় দশক ধরে খালেদা জিয়ার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবন থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন, কারাগারের নিঃসঙ্গ মুহূর্ত এবং বিদেশ সফরের গোপন করিডোর—প্রতিটি জায়গায় তিনি ছিলেন নিঃশব্দ সহযাত্রী। শুধু রাজনৈতিক কাজের দায়িত্ব নয়, খালেদার শারীরিক দুর্বলতা মোকাবেলায় সহায়তা করা, সময়মতো বিষয় মনে করানো এবং ওষুধ খাওয়ানোও ছিল তার নীরব মানবিক দায়িত্ব।
ফাতেমার জীবন সহজ ছিল না। ভোলার কাচিয়া ইউনিয়নের কৃষক পরিবারের মেয়ে হিসেবে জন্ম নেওয়া এই নারী, স্বামীর মৃত্যু পর দুই সন্তানকে নিয়ে সংগ্রাম করে ঢাকায় এসে ২০০৯ সালে খালেদা জিয়ার বাসভবনে কাজ শুরু করেন। তার নিষ্ঠাবান ও অনুগত সেবা তাকে রাজনৈতিক উত্তাল সময়ে নেত্রীর বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০১৩ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে ২০১৮ সালের কারাগার জীবন—সবসময় ফাতেমা ছিলেন খালেদার পাশে। করোনা মহামারীর সময়ে হাসপাতাল থেকে লন্ডনের চিকিৎসা সফর পর্যন্ত, তার সেবা ছিল রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার বাইরে নিঃস্বার্থ মানবিক বন্ধন।
বর্তমানে, দীর্ঘদিনের সেই সঙ্গী হারানোর পর ফাতেমা শারীরিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও মানসিকভাবে গভীর শোকে আচ্ছন্ন। তার জীবন ও দায়িত্ব এখন নতুনভাবে জড়িয়ে গেছে জাইমা রহমানের সঙ্গে, যেখানে তিনি আস্থার কেন্দ্রবিন্দু ও নীরব ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন।