
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের এক মন্তব্যের জবাবে কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ব্রিটিশরা না থাকলে হয়তো আমেরিকানরা এখন ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাজা চার্লস ট্রাম্পের গত জানুয়ারির এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। তখন দাভোস সম্মেলনে ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা না দিলে ইউরোপের অনেক দেশ হয়তো এখন জার্মান ভাষায় কথা বলত।
সেই বক্তব্যের জবাবে চার্লস বলেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি সম্প্রতি বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইউরোপীয়রা জার্মান ভাষায় কথা বলত। আমি শুধু বলতে চাই, আমরা না থাকলে হয়তো আপনারা ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন।’
তার এই মন্তব্যে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে তিনি উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ ও ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।
নৈশভোজে ট্রাম্পের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও রসিকতা করেন ব্রিটিশ রাজা। হোয়াইট হাউজের ইস্ট উইং সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্রিটিশরাও একসময় হোয়াইট হাউজে নিজেদের মতো করে ‘সংস্কার কাজ’ চালিয়েছিল। এর মাধ্যমে তিনি ১৮১৪ সালে ব্রিটিশ বাহিনীর হোয়াইট হাউজে আগুন দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন।
রাজা চার্লস আরও বলেন, ট্রাম্পের দেওয়া এই নৈশভোজ ১৭৭৩ সালের ‘বস্টন টি পার্টি’র তুলনায় অবশ্যই অনেক বড় অগ্রগতি। তার এমন মন্তব্যেও উপস্থিতদের মধ্যে হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়ে।
স্কটিশ বংশোদ্ভূত পরিবারের সন্তান ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। রাজার বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসে চমৎকার ভাষণের জন্য আমি চার্লসকে অভিনন্দন জানাতে চাই। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সিট থেকে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য করেছেন, যা আমি কখনোই করতে পারিনি।’
সফরে ট্রাম্পের জন্য একটি বিশেষ উপহারও নিয়ে আসেন রাজা চার্লস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত ব্রিটিশ সাবমেরিন ‘এইচএমএস ট্রাম্প’-এর একটি ঘণ্টা তাকে উপহার দেন তিনি। উপহার দেওয়ার সময়ও রসিকতার সুরে চার্লস বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কখনো যোগাযোগের প্রয়োজন হলে শুধু এই ঘণ্টাটি বাজাবেন।’