
যুদ্ধবিরতির শান্ত সময়টাকে মোটেও হেলায় হারাচ্ছে না ইরান; বরং এই সুযোগে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও রণকৌশলকে আমূল বদলে ফেলেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে জানান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যে কোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রস্তুত।
যুদ্ধ শেষ নয়, বরং প্রস্তুতির নতুন ধাপ
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া স্পষ্ট করে বলেন, সেনাবাহিনী বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে দেখছে না। তার মতে, শত্রুপক্ষের ওপর বিন্দুমাত্র আস্থা না থাকায় যখনই লড়াই থেমেছে বা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তখনই তারা নিজেদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা (টার্গেট ডাটাবেস) আরও সমৃদ্ধ ও হালনাগাদ করার কাজে মন দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র জানান, যুদ্ধবিরতির এই সময়ে সামরিক প্রশিক্ষণের ধারা যেমন সচল রাখা হয়েছে, তেমনি বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রণকৌশলে আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন।
সামরিক সরঞ্জাম ও কৌশলে আধুনিকায়ন
ইরানি বাহিনীর প্রস্তুতি কেবল পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আকরামিনিয়া জানান, তারা সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর গুণগত মানোন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "সেনাবাহিনী তাদের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও মানোন্নয়ন উভয় কাজই করেছে এবং ইরানের জন্য পরিস্থিতি মূলত এখনো যুদ্ধকালীন অবস্থার মতোই রয়ে গেছে।"
শত্রুর জন্য নতুন বিস্ময়
ইরানের নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া কোনো বিরতি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এই শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শত্রু যদি আবারও কোনো ধরনের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে। আকরামিনিয়া আশ্বস্ত করেন যে, "শত্রু যদি আবারও কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে তাদের ইরানের নতুন নতুন সামরিক সরঞ্জাম, কৌশল এবং লড়াইয়ের নতুন জায়গায় মোকাবিলা করতে হবে।"
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’র বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে, কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের সামরিক প্রস্তুতি জানান দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো থমথমে।