
রাজধানীর ধানমন্ডিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ের বিপরীতে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রেজাউল ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিস্ফোরণের পর পালানোর সময় তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের জন্য রেজাউলকে নিয়োগ করেছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ২৮ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর মঙ্গলবার রাতে সেখানে গিয়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।
বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান।
মধ্যরাতে দুটি বিস্ফোরণ, পালানোর সময় আটক
ধানমন্ডি থানার তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ২৬ মিনিটের দিকে ধানমন্ডি ১১/এ নম্বর সড়কের একটি বাসার সামনে পাকা রাস্তায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
বিস্ফোরণের পর গলির ভেতর দিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন রেজাউল। এ সময় পুলিশ তাকে আটক করে।
ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ। বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হননি।
৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিস্ফোরণের অভিযোগ
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল দাবি করেছেন, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে নিউমার্কেট এলাকার একটি চায়ের দোকানে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যক্তি তাকে আইসিটির তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রস্তাব দেন।
এ কাজের বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল জানিয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাব পাওয়ার পর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৮ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থলে গিয়ে রেজাউল সেটি পর্যবেক্ষণ করেন।
আইনি প্রক্রিয়া শুরু
পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান রেজাউল। এরপর গলির ভেতর দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। গ্রেফতার রেজাউলের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কর্মকর্তা।