
প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান জেবেল রহমান গানি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে জামানত হারিয়েছেন। তার দাদা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত সিনিয়র মন্ত্রী, বাবা ছিলেন প্রভাবশালী মন্ত্রী, আর ফুফুও ছিলেন সংসদ সদস্য।
রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে গাভি প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ ন্যাপ-এর প্রার্থী জেবেল রহমান গানি পেয়েছেন মাত্র ৪,৪৭৭ ভোট, যেখানে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুস সাত্তার (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) ১,৫০,৮২৪ ভোট পেয়ে।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৪,৯৯২ ভোট, কিন্তু তখনও বিজয়ী হন আফতাব উদ্দিন সরকার (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ), যিনি ১,৮৮,৭৮৪ ভোট পেয়েছিলেন।
জেবেল রহমানের দাদা ছিলেন প্রয়াত মশিউর রহমান যাদু মিয়া, যিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার হাতে ছিল রেলপথ, সড়ক পরিবহন, সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে শফিকুল গানি স্বপন উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
জেবেল রহমানের ফুফু মনসুরা মহিউদ্দিনও নীলফামারী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরপর দুইবার জয়ী হন।
স্থানীয়রা বলছেন, একসময় পরিবারের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা শীর্ষে থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা হ্রাস পেয়েছে। বাবা, দাদা ও ফুফুর সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকলেও জেবেল রহমান সেই রাজনৈতিক সংযোগ ধরে রাখতে পারেননি।
২০০৯ সালে শফিকুল গানি মারা যাওয়ার পর জেবেল রহমান গানি বাংলাদেশ ন্যাপ-এর চেয়ারম্যান হন। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েও দুবারই ভোটের অল্প অংশ পাওয়ায় জামানত হারান।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবির সরকার বলেন, “নির্বাচনে মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।”