
সোশ্যাল মিডিয়ায় জেন জি প্রজন্মের একটি নতুন হাতের ভঙ্গি ‘সাইলেন্ট স্ক্রিম’ ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আনন্দ বা উত্তেজনা প্রকাশের জন্য মুখে শব্দ না করে হাত ও মুখভঙ্গির মাধ্যমে চিৎকারের অভিব্যক্তি দেখানোর এই আচরণকে কেউ আধুনিক যোগাযোগের নতুন ভাষা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি তরুণদের সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতার দুর্বলতার ইঙ্গিত।
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই ভঙ্গি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জেন জি সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। সাধারণত কোনো সুখবর বা উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে মানুষ এটি ব্যবহার করছে, যেখানে শব্দের বদলে শরীরী ইশারায় অনুভূতি প্রকাশ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং ইন্টারনেট-নির্ভর সংস্কৃতির কারণে শব্দের পাশাপাশি ইশারা ও প্রতীকী আচরণও নতুন ভাষার রূপ নিচ্ছে। তাদের মতে, এটি কোনো দুর্বলতা নয় বরং পরিবর্তিত সামাজিক অভিব্যক্তির অংশ।
বিষয়টি নিয়ে পপ কালচার বিশ্লেষক ও ভাষাবিদ অ্যাডাম আলেক্সিক বলেন, অনলাইন সংস্কৃতির প্রভাবে আজকের দিনে ইশারাও ভাষার মতো আচরণ করছে।
তার মতে, ‘আমাদের জেশ্চার এখন শব্দের মতো কাজ করছে, এবং মানুষ স্বভাবগতভাবেই একে অন্যকে অনুকরণ করে’। যা সোশ্যাল মিডিয়ার আচরণগত প্রভাবের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, এই ধরনের ভঙ্গি মূলত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের শরীরী অভিব্যক্তি ও শর্টহ্যান্ড কমিউনিকেশন থেকে এসেছে, যা অনলাইনে দ্রুত আবেগ প্রকাশের একটি সহজ মাধ্যম হয়ে উঠছে
তবে সমালোচকদের দাবি, মুখোমুখি যোগাযোগের বদলে এ ধরনের অতিরঞ্জিত ইশারা ও অনলাইন নির্ভর অভিব্যক্তি তরুণদের বাস্তব জীবনের সামাজিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাদের মতে, এতে সরাসরি কথোপকথনের স্বাভাবিকতা কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে গবেষকরা মনে করেন, জেন জি প্রজন্ম অনলাইন সংস্কৃতির প্রভাবে নতুন ধরনের যোগাযোগ কাঠামো তৈরি করছে, যেখানে ইশারা, সংক্ষিপ্ত শব্দ ও ব্যঙ্গাত্মক অভিব্যক্তি মিলেই একটি নতুন সামাজিক ভাষা গড়ে উঠছে।