বিয়ে নিয়ে দ্বিধা বা অনিশ্চয়তা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এই ভয় এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি কিংবা বিয়ের প্রসঙ্গ এলেই তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন প্রবল ভীতি সাধারণ অস্বস্তি নয়, এটি এক ধরনের মানসিক সমস্যা, যাকে বলা হয় ‘গ্যামোফোবিয়া’।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যামোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা বৈবাহিক সম্পর্ককে চাপ, অনিশ্চয়তা কিংবা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেন। ফলে সম্পর্ক গভীর হওয়ার আগেই তারা দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেক সময় বিয়ের আলোচনা শুরু হলেই মানসিক অস্থিরতা থেকে শারীরিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের ভীতির সময় অনেকের বুক ধড়ফড় করতে পারে, শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে, অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি, মাথাব্যথা কিংবা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করা বা কথা বলাও কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় উদ্বেগে থাকলে বিষণ্ণতা বা হতাশার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
গবেষকদের মতে, অতীতের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা, প্রতারণা, পারিবারিক কলহ বা বিচ্ছেদের পরিবেশে বড় হওয়া অনেক সময় বিয়ে নিয়ে নেতিবাচক মানসিকতা তৈরি করে। আবার কিছু মানুষ ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে এত বেশি গুরুত্ব দেন যে, বৈবাহিক সম্পর্ককে তারা নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা হিসেবে দেখেন।
সামাজিক চাপও এ ধরনের মানসিক সমস্যার একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবার বা সমাজের প্রত্যাশা, নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে করার চাপ কিংবা সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ অনেকের মধ্যে ভয় বাড়িয়ে দেয়।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কেউ যদি দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে চলেন, বিয়ের কথা উঠলেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বা সম্পর্ক থেকে পালিয়ে যেতে চান, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ অবহেলা করলে এই ভয় ধীরে ধীরে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
গ্যামোফোবিয়া কাটিয়ে উঠতে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপিসহ বিভিন্ন মনোচিকিৎসা পদ্ধতি এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, ধ্যান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবারের সদস্য বা সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করতে পারে।