
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির মোড় ঘোরাতে এবং এশীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মূলত বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার ঐতিহ্যগত কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন করে আরও মজবুত ও ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যেই এই হাই-প্রোফাইল সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে চীন ও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো যৌথভাবে এই ঐতিহাসিক সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করেছে।
চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া পৌঁছাবেন। সফর চলাকালীন তিনি উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ-ও তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে এই সফরের খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে এবং একে বেইজিং-পিয়ংইয়ং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, এটি হবে ২০১৯ সালের পর উত্তর কোরিয়ার মাটিতে শি জিনপিংয়ের প্রথম পা রাখা। একই সঙ্গে চলতি ২০২৬ সালে এটিই চীনের এই শীর্ষ নেতার প্রথম কোনো বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে, যা এই সফরের গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীকরণের কারণে দুই চিরচেনা প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে শি জিনপিংয়ের এই ঝটিকা সফরের মধ্য দিয়ে সেই পুরোনো ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আবারও আগের মতো উষ্ণ ও গতিশীল করার একটি জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই উত্তর কোরিয়া সফরে যাওয়ার ঠিক আগেই বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পৃথক দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানিয়েছেন শি জিনপিং।
ওয়াশিংটন ও মস্কোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনার পরপরই তিনি পিয়ংইয়ং সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে এটি ব্যাপক কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ও রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর কিম জং উনের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের এই আসন্ন বৈঠকটি বিশ্ব রাজনীতি ও এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্যের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।