
দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে শুধু অস্বস্তিই নয়, বাড়ছে পানিশূন্যতা, ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, এই সময়ে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে শুধু পানি নয়, সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজও বের হয়ে যায়, যা সঠিকভাবে পূরণ না হলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মাংসপেশিতে টান এমনকি গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও পুষ্টি নির্দেশনায়ও দেখা যাচ্ছে, শুধু পানি নয়, ভারসাম্যপূর্ণ তরল ও খনিজ গ্রহণই গরমে নিরাপদ থাকার মূল চাবিকাঠি।
গবেষণায় বলা হচ্ছে, অতিরিক্ত গরমে শরীরের ফ্লুইড ও ইলেকট্রোলাইট লস দ্রুত হয়, যা দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পানি, প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট এবং সহজপাচ্য খাবারের সমন্বয় সবচেয়ে কার্যকর।
তরমুজ, আনারস, পেঁপে, বেল, তেঁতুল ও কমলার মতো ফল শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করতে সাহায্য করে। গবেষণা ও পুষ্টিবিদদের মতে, দিনে পরিমিত পরিমাণে এসব ফল বা রস গ্রহণ শরীরের পানি ও খনিজের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।
গরমে টক দই দিয়ে তৈরি লাচ্ছি বা ঘোলকে প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমে সহায়তা করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পুষ্টি বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, দইভিত্তিক পানীয় ঘামের মাধ্যমে হারানো খনিজ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘাম বা পানিশূন্যতা হলে ওআরএস শরীরের সোডিয়াম ও গ্লুকোজের ভারসাম্য দ্রুত ফিরিয়ে আনে। এটি বিশেষ করে মাঝারি থেকে গুরুতর পানিশূন্যতায় কার্যকর। তবে এটি নিয়মিত পানীয় হিসেবে নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটে সমৃদ্ধ ডাবের পানি গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে জনপ্রিয় একটি পানীয়। এতে পটাশিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ থাকে, যা ঘামের মাধ্যমে হারানো লবণ আংশিকভাবে পূরণ করতে সাহায্য করে।
লাউ, ঝিঙে, চালকুমড়া, পটোলসহ পানি-সমৃদ্ধ সবজি দিয়ে পাতলা ঝোলের খাবার শরীরকে অতিরিক্ত গরম না করে হাইড্রেশন বজায় রাখে। মাছের হালকা ঝোলও প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে কাজ করে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের খাবার গরমে হজমেও তুলনামূলক সহজ।
গরমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত পানি পান করা। চিকিৎসকদের মতে, অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করলে শরীর ভালোভাবে হাইড্রেটেড থাকে। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি একসঙ্গে না খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়, কারণ এতে হজম ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু পানি খেলেই যথেষ্ট নয়, বরং পানি, লবণ, প্রাকৃতিক পানীয় ও সহজপাচ্য খাবারের সমন্বয়ই গরমে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করাই গরমজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।