
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হত্যাকারী তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে দেশটির আদালত বুধবার (২১ জানুয়ারি) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। ৪৫ বছর বয়সী তেতসুয়া ২০২২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ওপর গুলি চালান, যা হাসপাতালে আবের মৃত্যু ঘটায় এবং জাপানসহ আন্তর্জাতিক মহলকে স্তব্ধ করে দেয়।
আদালতের প্রসিকিউটররা তেতসুয়ার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান। তারা বলেন, “জাপানের যুদ্ধপরবর্তী ইতিহাসে এমন অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেনি। হত্যাকাণ্ডটি সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।”
অন্যদিকে তেতসুয়ার পক্ষে আদালতে তার আইনজীবী সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন।
২০২২ সালের ৮ জুলাই জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে এক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নারায় গিয়েছিলেন শিনজো আবে। সেখানে তিনি জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাতসুয়া তাঁকে পাইপ ও ডাকটেপ দিয়ে তৈরি পিস্তল দিয়ে দুটি গুলি চালান। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শিনজো আবের মৃত্যু ঘটে। ওই সময় তাতসুয়া জাপানের নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
কেন তাতসুয়া ক্ষুব্ধ ছিলেন শিনজো আবের প্রতি
তাতসুয়ার মা জাপানের বিতর্কিত ইউনিফিকেশন চার্চের ভক্ত ছিলেন এবং প্রায় সব সম্পদ সেখানে দান করেছিলেন। এর ফলে তাতসুয়া ও তার পরিবার আর্থিক কষ্টে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে শিনজো আবের এই চার্চের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই তাতসুয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সুযোগ পেলেই তাকে ক্ষতি করার পরিকল্পনা শুরু করেন।
২০২২ সালের ৮ জুলাই নারা শহরে শিনজো আবেকে উপস্থিত দেখতে পেয়ে তাতসুয়া গুলিবর্ষণ করেন। এরপর দুইটি গুলি তাঁকে আঘাত করে, এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুবরণ করেন।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি