
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পথে বড় ধাক্কা এলো বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য। আজ বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এসব দেশের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ প্রায় ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য ব্যবসা ও পর্যটন ভিসায় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড চালু হচ্ছে। সম্প্রতি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানায় মার্কিন প্রশাসন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আশ্রয় আবেদন কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।
অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় অনির্দিষ্ট বিরতি
গত ১৪ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে প্রবেশের বৈধ সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কল্যাণমূলক ও সরকারি সুবিধা অপব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সম্পদ আত্মসাতের প্রবণতা বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থগিতাদেশের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও ভুটান রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত অ-অভিবাসী, অস্থায়ী পর্যটক কিংবা ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
এই ঘোষণায় দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন ভিসার অপেক্ষায় থাকা বহু বাংলাদেশির অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের সেখানে নেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত থমকে গেছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে গ্রিনকার্ডধারী, নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কিংবা ছুটিতে বাংলাদেশে আসতে ইচ্ছুক অনেকেই এখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।
কার্যকর হলো ভিসা বন্ডের নতুন নিয়ম
এর আগে কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ব্যবসা ও পর্যটন ভিসায় অতিরিক্ত আর্থিক জামানত নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় ট্রাম্প প্রশাসন। সে সময় ভিসা বন্ডের পরিমাণ পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়। প্রথম দফায় সাতটি দেশ এই তালিকায় থাকলেও, গত ৬ জানুয়ারি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে তালিকা প্রায় চার গুণ বাড়ানো হয়, যেখানে যুক্ত হয় বাংলাদেশের নামও। আজ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস গত সোমবার এক বার্তায় জানায়, বাংলাদেশের যেসব নাগরিক ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ ভিসার জন্য অনুমোদন পাবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে। তবে আজকের আগে ইস্যু করা বৈধ বি১/বি২ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
দূতাবাসের বার্তায় সতর্ক করে বলা হয়, “সাক্ষাত্কারের আগে বন্ড পরিশোধ করবেন না।” আগাম অর্থ জমা দিলেও তা ভিসার নিশ্চয়তা দেয় না এবং তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট প্রতারণামূলক হতে পারে। সাক্ষাত্কারের আগে পরিশোধ করা কোনো অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। ভিসার সব শর্ত যথাযথভাবে মানলে বন্ডের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধ অবস্থান ঠেকাতে এই বন্ড ব্যবস্থা চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভিসা সাক্ষাত্কারের সময় জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে এবং ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে বা শর্ত মেনে চললে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে।
এদিকে মার্কিন দূতাবাস আরও জানিয়েছে, এফ বা এম ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা বন্ড জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশের বাধ্যবাধকতা
ভিসা বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী বাংলাদেশিদের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো— বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (বিওএস), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (জেএফকে) এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (আইএডি)।
এই তিনটি বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশত্যাগ করলে তা ভিসা বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।