
ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সদ্য নিযুক্ত ১২ জন কানুনগোকে কোনো নির্দিষ্ট পছন্দে নয়, বরং লটারির মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ অনুবিভাগের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় পদায়ন করা হয়েছে।
ব্যতিক্রমী পদায়ন প্রক্রিয়া
রোববার (১০ মে) ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই লটারি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ভূমি অধিগ্রহণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ), ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, সার্ভেয়ারসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এই স্বচ্ছ বণ্টন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। মূলত প্রশাসনিক কাজে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।
ভোগান্তিহীন ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
লটারি শেষে নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি এলএ শাখার প্রতিটি সদস্যকে পূর্ণ আন্তরিকতা, দ্রুততা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দ্রুততম সময়ে তাঁদের পাওনা ক্ষতিপূরণ পান, তা নিশ্চিত করতে তিনি কঠোর নির্দেশ দেন।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও প্রত্যাশা সরাসরি জড়িত। তাই এই কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগের ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আস্থা ও কর্মস্পৃহা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।"
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লটারির মাধ্যমে এই পদায়ন কার্যক্রম প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের প্রতি নতুন উৎসাহ তৈরি করবে। একইসঙ্গে এটি দালাল চক্রের প্রভাব কমানো এবং সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি সহজতর করতে বড় ভূমিকা রাখবে।