
ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একঝাঁক হালকা ও দ্রুতগতির সাবমেরিন মোতায়েন করেছে। দেশটির নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা এসব সাবমেরিনকে তাদের গতি ও কার্যকারিতার কারণে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” নামে অভিহিত করেছেন।
রোববার (১০ মে) ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের এক বিবৃতির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে মেহর নিউজ এজেন্সি।
ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেন, পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কৌশলগত প্রয়োজনের কারণে হরমুজ প্রণালিতে এসব সাবমেরিন মোতায়েন করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সাবমেরিন দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে সক্ষম এবং গোপনে শত্রু জাহাজ শনাক্ত ও প্রয়োজনে আঘাত হানতে সক্ষম।
নৌবাহিনী জানায়, নতুন মোতায়েন করা হালকা সাবমেরিনগুলো অত্যন্ত দ্রুতগামী ও অগভীর পানিতে কার্যকরভাবে চলাচল করতে সক্ষম। এদের গোপনীয়তা ও গতিশীলতার কারণে নৌসদস্যরা এগুলোকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” বলে ডাকেন।
সম্প্রতি “ডেনা ডেস্ট্রয়ার” জাহাজের শহীদদের স্মরণে একটি নৌ মহড়ার সময় এসব সাবমেরিন অংশ নেয়। মহড়ার সময় সাবমেরিনগুলো কিছু সময় পানির উপরে উঠে আসে এবং পরে আবার সমুদ্রের গভীরে নিজেদের মিশনে ফিরে যায়।
ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালিতে দেশটির নৌ সক্ষমতার ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রমাণ।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ এসেছে, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের নৌবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন সেই দাবির সরাসরি জবাব।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের দ্রুতগতির সাবমেরিন ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।