
আফগানিস্তানে তালেবান শাসনামলে নারীদের ক্রিকেটসহ সব ধরনের খেলাধুলায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এবার কঠোর অবস্থান নিলো ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। অস্ট্রেলিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করে ইসিবি জানিয়ে দিয়েছে, আইসিসি নির্ধারিত বড় টুর্নামেন্ট ব্যতীত আফগানিস্তানের সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে না তারা।
তালেবান নীতির প্রতিবাদে ইসিবির অবস্থান
আফগান নারীদের মানবাধিকার খর্ব করা, বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বন্ধের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ইংল্যান্ড। ইসিবির সভাপতি রিচার্ড থম্পসন জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্ক বজায় রাখা নৈতিকভাবে সম্ভব নয়। ইসিবির এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সম্ভাব্য সিরিজগুলোও বর্জনের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।
তালেবানের কঠোর নীতির সমালোচনা করে রিচার্ড থম্পসন বলেন, ‘আফগানিস্তানের নারী শিক্ষা ও নারীদের শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে নানান অংশগ্রহণের ব্যাপারে কঠোরতা ও ক্রিকেট খেলার ওপর বিধিনিষেধ প্রয়োগ করায় তালেবান সরকারের সাথে ক্রীড়া সম্পর্ক রাখা ঠিক মনে করছে না ইসিবি।’
আফগান নারী ক্রিকেটের করুণ দশা
২০২০ সালে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রথমবারের মতো ২৫ জন নারী ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় এনেছিল, যা ছিল দেশটির ক্রিকেটে এক বড় অর্জন। কিন্তু ২০২১ সালে তালেবান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে সেই অগ্রগতি থমকে যায়। চুক্তিবদ্ধ নারী ক্রিকেটার ও তাঁদের পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে।
দেশত্যাগী ক্রিকেটারদের হাহাকার
তালেবানি রোষানল থেকে বাঁচতে অনেক ক্রিকেটার তাঁদের ক্রিকেট সরঞ্জাম পুড়িয়ে ফেলতে বাধ্য হন। ফিরোজা আমিরি ও বেনাফশা হাশিমির মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন। মেলবোর্ন ও ক্যানবেরার মতো শহরগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই ক্রিকেটাররা এখনো নিজ দেশের হয়ে মাঠে ফেরার স্বপ্ন দেখেন, যদিও বর্তমানে সেই পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ডের এই ঘোষণা আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে। আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ থাকা সত্ত্বেও নারী দল না থাকায় আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।