
গোপালগঞ্জ শহরে চুরির অপবাদ দিয়ে আল আমিন শেখ (২৫) নামের এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২০ মে) রাতে জেলা শহরের মধ্য মিয়াপাড়া এলাকায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে মধ্য মিয়াপাড়ার শরীফ লিটন সড়কের ডা. এম ডি রবিউল ইসলাম তুহিনের বাড়ির কেয়ারটেকার মো. কামরুল ঠাকুরের কক্ষের বাথরুম থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আল আমিন শেখ স্থানীয় মধ্য মিয়াপাড়া এলাকারই বাসিন্দা ছিলেন।
চুরির সন্দেহে দফায় দফায় অমানুষিক নির্যাতন
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির কেয়ারটেকার মো. কামরুল ঠাকুরের মালিকানাধীন গ্যারেজের একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়ায় চালাতেন আল আমিন। দুই দিন আগে ওই গ্যারেজ থেকে হঠাৎ একটি রিকশা চুরি হয়ে যায়। এই চুরির পেছনে আল আমিনের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করেন কামরুল। এর জেরে বুধবার আল আমিনকে ওই বাসার একটি কক্ষে আটকে রেখে কামরুল ও তার সহযোগীরা দফায় দফায় অমানুষিক ও বর্বরোচিত মারধর করে।
এদিকে, ছেলে বাড়িতে না ফেরায় আল আমিনের মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধান করতে করতে বুধবার গভীর রাতে তিনি অভিযুক্ত কেয়ারটেকার কামরুলের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে বারবার ডাকার পর কামরুলের ছেলে ঘরের দরজা খুলে দেয়। আল আমিনের মা ভেতরে ঢুকে বাথরুমের মেঝেতে তার সন্তানকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার আর্তচিৎকারে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।
মরদেহ উদ্ধার ও পুলিশের বক্তব্য
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আল আমিনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত কেয়ারটেকার মো. কামরুল ঠাকুর নিজের বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "চুরির অপবাদ দিয়ে এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে মারধরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে।"