
দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় সাতবাড়িয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী বক্তব্যে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম বলেন, “খাল পুনঃখননের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং কৃষকদের জন্য সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কৃষকরা সবজি ও বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন।”
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সাতবাড়িয়া এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে খালের পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দিয়ে একটি দরিদ্রপীড়িত দেশকে কৃষিনির্ভর স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ইতোমধ্যেই দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং খালগুলো শনাক্তকরণের কাজ চলমান। তিনি এলাকার উন্নয়নে খাল পুনঃখননের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার দিকে গুরুত্বারোপ করে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সাতবাড়িয়া খালের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করবে। খালটি ৪৫ ফুট চওড়া এবং প্রায় ১০ ফুট গভীর করে খনন করা হবে। এর ফলে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং সরাসরি প্রায় দেড় হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বিপিএম, বিএডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল রশিদ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফকিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুল কামাল কারিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ, স্থানীয় উপকারভোগী মো. নাজমুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।