
মাত্র কয়েক মাস আগেও নতুন সংসার নিয়ে স্বপ্ন বুনছিলেন র্যাব সদস্য ইমন আচার্য। পরিবারের হাল ধরার পাশাপাশি অসুস্থ বাবার চিকিৎসা আর সদ্যবিবাহিত স্ত্রীকে ঘিরেই ছিল তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
কিন্তু সিলেটে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনায় এক মুহূর্তেই থেমে গেছে সেই স্বপ্নের পথচলা। গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
রোববার (২৪ মে) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম ধলই গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় র্যাব-৯ এর কনস্টেবল ইমন আচার্যের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) সকালে নিহতের বড় ভাই সুজিত আচার্য সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসাদুল আলম বাপ্পীকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
পরে বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিহতের বড় ভাই সুজিত আচার্য একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের পরিবারে মোট সাতজন সদস্য। বাবা আগে পুলিশে চাকরি করতেন, কিন্তু এক সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি পঙ্গু হয়ে বিছানায়। ইমন শুধু আমার ছোট ভাই ছিল না, সে ছিল আমাদের ঘরের খুঁটি। এখন আমার অসুস্থ বাবাকে কী বলব? আমার ভাইয়ের সদ্যবিধবা স্ত্রীকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবো?’
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ইমনের ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডসহ শরীরের কয়েকটি স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ভাইয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সিলেট কোতোয়ালি থানা এলাকায় কয়েকজন ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীকে ধাওয়া করছিল পুলিশ। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা র্যাব সদস্য ইমন আচার্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তিনি আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটকানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুকে ও পিঠে একাধিক আঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বাপ্পী একটি বাসায় ঢুকে এক শিশুকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করে রক্তমাখা ছুরিসহ তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ইমন আচার্য বীরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। এই ঘটনার পর আমরা এসএমপির সঙ্গে যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গত রাত পর্যন্ত ৪৪ জন ছিনতাইকারী ও দুষ্কৃতকারীকে আটক করেছি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্রুত বিচার আইনে এই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই। নিহত ইমনকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে। র্যাব সবসময় এই বীর সদস্যের পরিবারের পাশে থাকবে।’